মতবিনিময় সভায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল আমিন ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসায় দেশে নির্বাচন পরবর্তী কোন সহিংসতা হয়নি’

মীরসরাই প্রতিনিধি :
মীরসরাই আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী দলীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন কেন্দ্রে দায়িত্বপালনকারীদের সাথে মতবিনিময় করেছেন বিএনপি মনোনীত নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল আমিন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বারইয়ারহাট নির্বাচনী কার্যালয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল আমিন বলেন, ‘নির্বাচনে মীরসরাই আসনে বিএনপি বিজয়ী হলেও ভোটের ব্যবধান আরো বেশী হওয়ার কথাছিলো। কেন কম হয়েছে সেটা বের করার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। মীরসরাইয়ে জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতিতে কোন গ্রুপিং থাকবেনা। আমরা সবাই বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের গ্রুপ করবো। ৫ই আগস্টের পর ব্যক্তিগত অফিসের নাম দিয়ে যারা বিভিন্ন ইউনিয়ন, হাট-বাজারে দোকান খুলে বসেছেন তা বন্ধ করতে হবে। নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে অনেকের অফিসে আমার ছবি দেখেছি। কারো অফিসে আমার ছবি রাখবেন না। আমার ছবি দিয়ে আপনাদের দোকানদারি বন্ধ করুন। আমি কারো থেকে কমিশন নিই না। আপনাদের অপকর্মের দায় আমি নেবো না। ব্যক্তিগত অফিস যদি বন্ধ না করেন তাহলে নেতৃবৃন্দ গিয়ে তা বন্ধ করে দিবে। দলীয় অফিসে শুধুমাত্র দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আর বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি থাকবে।’

নির্বাচন পরবর্তী কর্মসূচী নিয়ে তিনি বলেন, ‘মীরসরাইকে আমি মাদকমুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি কেউ করতে পারবে না। মাদক, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে পুরো উপজেলাবাসী আমাদের পক্ষ হয়ে যাবে। সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে এ বিষয়ে কাজ শুরু করতে হবে। আমি আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে বলবো; মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে আপনারা আমাদের সহায়তা করুন।’

নির্বাচনের বিষয়ে নুরুল আমিন বলেন, ‘সমাজে একটি গুজব রটানো হয়েছিলো বিএনপি ক্ষমতায় আসলে কেউ বাড়ি ঘরে থাকতে পারবেনা। অথচ নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে মীরসরাই সহ সারাদেশে কোন সহিংসতা, মারামারির ঘটনা ঘটেনি। বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে বিধায় এমনটি সম্ভব হয়েছে। অতীতে নির্বাচন পরবর্তী অনেক সংঘর্ষ আর সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিলো।’

সনাতন সহ অন্যান্য ধর্মালম্বীদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি গণসংযোগে বিভিন্ন হিন্দু পাড়া, বৌদ্ধ অধ্যুষিত গ্রামে যাওয়ার পর আমাকে উনারা আশঙ্কা করে বলতেন; ভোটের পর তাদের কোন সমস্যা হবে কিনা। আমি তাদের আশ^াস দিয়ে বলেছি; আমি আপনাদের সাথে আত্মীয়তা করতে চাই। আপনাদের কোন ভয় নেই। আপনারা জাতীয়তাবাদী দলের কাছে নিরাপদ থাকবেন। আমি নেতাকর্মীদের বলবো, যার যার গ্রামে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ধর্মের জনগণ আছেন; সবার নিয়মিত খোঁজখবর নিবেন। কেউ যাতে নিরাপত্তাহীনতায় না ভুগেন। আগামীতে যেন তারা সবাই আমাদের ভোট দেয়।’

নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে তিনি বলেন, ‘মহান আল্লাহর দরবারে শোকরিয়া আদায় করছি। আলহামদুল্লিাহ। আল্লাহ আমাকে প্রায় ৪৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করেছেন। যা মীরসরাই আসনে রেকর্ড। অতীতে কোন প্রার্থী এতো বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতে পারেননি। এখন সময় এসেছে আমাদের দুর্বলতা তদন্ত করে বের করার। যারা দলের আদর্শের সাথে বেইমানী করেছেন তাদের চিহ্নিত করে বিষদাঁত ভেঙ্গে দিতে হবে। না হয় আগামীতেও তারা দলের বাইরে গিয়ে কাজ করবে। দলের নাম ভাঙ্গিয়ে যারা ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতি করেছে, চাঁদাবাজীর সাথে জড়িত ছিলো তাদের কারণে ভোট কম পড়েছে। আগামীতে যারা দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অন্যায়, চাঁদাবাজির সাথে জড়িত থাকবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনারা সংশোধন হয়ে গেলে আগামীতে কেউ বিএনপি কে হারাতে পারবে না।’

নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা প্রসেঙ্গ নুরুল আমিন বলেন, ‘তারা জান্নাত-জাহান্নামের কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিলো। মহিলাদের ভুলবাল বুঝিয়ে ভোট নিয়েছে। বাংলাদেশকে জঙ্গিরাষ্ট্র বানাতে চেয়েছিলো। দেশের স্বাধীণতার পক্ষের মানুষ বিএনপিকে ভোট দেওয়ায় আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেছেন।’

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আজিজুর রহমান চৌধুরীর উপস্থাপনায় আহবায়ক আবদুল আউয়াল চৌধুরীর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, ফটিকছড়ি আসন থেকে নবনির্বাচিত বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর, বারইয়ারহাট পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও নির্বাচনী চীফ এজেন্ট দিদারুল আলম মিয়াজী, বিএনপি নেতা আ.ক.ম জান্নাতুল করিম খোকন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মনিরুল ইসলাম ইউসুফ, বারইয়ারহাট পৌর বিএনপির আহবায়ক মাঈন উদ্দিন লিটন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সালাউদ্দিন সেলিম, নুরুল আবছার চেয়ারম্যান, জসিম উদ্দিন, সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, মোহাম্মদ আলমগীর, বিএনপি নেতা লায়ন তাহের আহম্মদ, ফখরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্চসেবক দলের আহবায়ক সরোয়ার হোসেন, উপজেলা বিএনপির সদস্য শাহিনুল ইসলাম স্বপন, চট্টগ্রাম জেলা কারা পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম তৌহিদ, নজরুল গবেষক ড. কামাল, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন রুবেল। এসময় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল সহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।