১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ - ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সরকার চাইলে বুলবুলের আপত্তি নেই

ডেস্ক রিপোর্ট :
বাংলাদেশ ক্রিকেটকে নতুন পথে হাঁটাতে আইসিসির চাকরি ছেড়ে এসেছিলেন তিনি। ক্রিকেট মাঠে দেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান, সেই আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থার আরামদায়ক দায়িত্ব পেছনে ফেলে তিনি ফিরেছেন নিজের মাটিতে, একটাই কারণে-বাংলাদেশ ক্রিকেট। তাই বিসিবির সভাপতির দায়িত্ব যখন হাতে আসে, সেটিকে ব্যক্তিগত গৌরব নয়, বরং দেশের প্রতি নিজের দায় হিসেবেই নিয়েছেন তিনি।
অক্টোবরেই শেষ হবে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ। তার পরই নির্বাচন। কিন্তু সেই নির্বাচনের পথে হাঁটতে আগ্রহী নন বুলবুল। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভোটে প্রার্থী হয়ে তিনি লড়বেন না। তবে এনএসসি (জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ) যদি তাকে মনোনীত করে এবং বোর্ড পরিচালকরা আস্থা রাখেন, তবে তিনি এগিয়ে যেতে রাজি আছেন। নইলে এখানেই থেমে যাবে এই পথচলা।
গতকাল চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বুলবুলের কণ্ঠে ছিল প্রখর বাস্তববোধ, তবুও আভাস ছিল অদম্য স্পৃহা। আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, ‘অনেক কিছুই নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কোনো ব্যক্তি এখানে গুরুত্বপূর্ণ নন, এখানে ক্রিকেটটাই আসল। কে এলো, কে গেল-সেটা আলোচনার বিষয় নয়। মাঠে ক্রিকেট চলবে, ক্রিকেটাররা খেলবে, কর্মকর্তারা কাজ করবে-সেটাই যথেষ্ট। আমি শুধু চাই ক্রিকেট যেন সঠিক পথে এগোয়। আমি কেবল সামনের দিকে তাকাই, দেখি কী হয়!’

আইসিসির আরামদায়ক পদ ছেড়ে এসে বিসিবির হাল ধরেছেন তিনি। এখন ভবিষ্যতের দায়িত্ব তার হাতে থাকবে কি না, সেটি নির্ভর করছে সময়ের ওপর। কিন্তু আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগত পদ-পদবি চান না, চান শুধু দেশের ক্রিকেট এগিয়ে যাক সামনে, ঠিক তার চোখের মতো-সব সময় সামনের দিকে। বুলবুল স্পষ্ট বলেছেন, ‘আমি এখানে হঠাৎ করে এসেছি এবং একটা দায়িত্ব নিয়ে এসেছি। আমার পার্মানেন্ট সব কিছু ছিল। সব ছেড়ে এসেছি দেশের জন্য। সে কাজ যতদিন করা সম্ভব করলাম। পরবর্তীতে, সেখানে আমার হাত নেই।’
বুলবুল জানান, ‘আমি ও ফাহিম ভাই এনএসসির কাউন্সিলর। এটা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করছে। প্রথমে এনএসসি আমাকে কাউন্সিলর করতে হবে। তারপর একটা বোর্ড আসবে, সেই বোর্ডের পরিচালকরা প্রেসিডেন্ট বানাবে। এটা অনেক দূরের কথা। এখন আমার যে কাজ সেখানেই ফোকাস করছি।’ অর্থাৎ সরকারের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত পেলে বিসিবির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনে ‘না’ নেই বুলবুলের।
গতকাল চট্টগ্রামে উদ্বোধন হয়েছে আঞ্চলিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টের। সেখানে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিসিবি সভাপতি বলেছেন স্কুল ক্রিকেটে পরিবর্তনের তাড়নার কথা। আজকের স্কুল মাঠগুলোতেই তিনি খুঁজে ফিরছেন আগামী দিনের তামিম, সাকিব, মুশফিক কিংবা রিয়াদকে। তার ভাবনায় স্কুল ক্রিকেট শুধু প্রতিযোগিতা নয়, বরং দেশের ক্রিকেট সংস্কৃতিকে শেকড় থেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রকল্প।
তিনি বলেছেন ‘স্কুল ক্রিকেট অনেক দিন ধরেই হচ্ছে। কিন্তু এবার আমরা চাই নতুন উদ্যোগে, নতুনভাবে এটি করতে। যাতে শুধু প্রতিযোগিতা নয়, সেখান থেকেই জন্ম নেয় ক্রিকেটভক্ত, জন্ম নেয় নতুন প্রতিভা।’ বুলবুলের পরিকল্পনায় প্রতিটি জেলা, প্রতিটি উপজেলা যেন হয়ে ওঠে একেকটি ক্রিকেট পরিবার। শুধু খেলোয়াড় নয়, তৈরি হবে ফিজিও, ট্রেনার, সাপোর্ট স্টাফ-যেখানে ক্রিকেট হবে সর্বাঙ্গীন।




