১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ - ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চুক্তি হয়নি, তবে ‘অগ্রগতি হয়েছে’: ইউক্রেন ইস্যুতে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প

ডেস্ক রিপোর্ট :
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেনে যুদ্ধ অবসানে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছেন। কোনো চুক্তি না হলেও এ বৈঠকে ‘অগ্রগতি’ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ‘এখন এটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব মূলত প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির। আর আমি এ-ও বলব, ইউরোপীয় দেশগুলোকেও কিছুটা জড়িত হতে হবে। তবে মূল দায়িত্ব প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির… এবং তারা যদি চায়, আমি আগামী বৈঠকে উপস্থিত থাকব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ধারণা, তারা এখন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি, প্রেসিডেন্ট পুতিন ও আমার মধ্যে বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছে।’
আলাস্কায় কয়েক ঘণ্টার বৈঠককে ‘ইতিবাচক’ হিসেবে অভিহিত করলেও পুতিনের কাছ থেকে ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের জন্য কোনো চুক্তি আদায় করতে পারেননি ট্রাম্প।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আজ আমাদের খুব ভালো একটা বৈঠক হয়েছে, কিন্তু দেখা যাক। মানে…একটা চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। আমরা অনেক বিষয়ে একমত হয়েছি। আমি চাই ইউক্রেনে মানুষের মৃত্যু বন্ধ হোক।’
তিনি আরও বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত চুক্তি না হচ্ছে, ততক্ষণ কোনো চুক্তি নেই, তবে আমরা অনেকখানি অগ্রগতি করেছি।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন: ‘চুক্তিটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি…ইউক্রেনকে রাজি হতে হবে।’
‘বেশ গুরুত্বপূর্ণ এক-দুটি বিষয়ে’ একমত হতে হবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, এখন এই চুক্তি সম্পন্ন করার দায়িত্ব মূলত জেলেনস্কির।
বৈঠকে পুতিনের সঙ্গে একান্তে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, হয়েছিল—আমাদের দুজনের বক্তব্যের পর। তিনি খুব ভালো বক্তৃতা দিয়েছেন, আমিও আমার বক্তব্য শেষ করি। এরপর আমরা কথা বলেছি। ঠিক তার পরই আমরা অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কথা বলেছি। আমার মনে হয়, তিনি চুক্তিটি করতে চান।’
এর আগে পুতিন দাবি করেন, ইউক্রেন বিষয়ে তারা একটি ‘বোঝাপড়ায়’ এসেছেন। সেইসঙ্গে ইউরোপকে সতর্ক করে তিনি বলেন, তারা যেন ‘এই প্রাথমিক অগ্রগতিকে নস্যাৎ না করে’। ট্রাম্প জানান, আলোচনা সম্পর্কে জানাতে তিনি জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় নেতাদের ফোন করবেন।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার প্রথম দিনই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে গত সাত মাসেও তিনি পুতিনকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করাতে পারেননি।
যুদ্ধ বন্ধ করতে ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি অ্যাঙ্করেজের জয়েন্ট বেস এলমেন্ডরফ-রিচার্ডসনে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনাও জানান। তাতেও ফল মিলেনি।
আলাস্কার বৈঠকে আলোচনা যে ট্রাম্পের প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলপ্রসূ হয়নি, তার একটি ইঙ্গিত মেলে যখন দুই নেতা তাদের যৌথ সংবাদ সম্মেলন সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার সুযোগ না দিয়েই শেষ করে দেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প একে ‘খুব আন্তরিক’ বলে অভিহিত করলেও পুতিনের সঙ্গে কী নিয়ে আলোচনা করেছেন সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে তিনি রাজি হননি।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমাদের অত্যন্ত ফলপ্রসূ একটি বৈঠক হয়েছে। অনেক বিষয়ে মতৈক্য হয়েছে। মাত্র কয়েকটি বিষয় বাকি আছে। এর মধ্যে কিছু খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। একটি সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তবে আমাদের চুক্তিতে পৌঁছানোর খুব ভালো সম্ভাবনা আছে।’ তিনি এরপরই বলেন, ‘আমরা চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি।’




