১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ - ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মীরসরাইয়ে বিএসআরএম কারখানায় হামলা: ৬জন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন বিএসআরএম স্টিল কারখানায় সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও শ্রমিকদের হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহার নামীয় আসামী মোঃ তাজুল ইসলামসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম।
সোমবার (৪ আগস্ট) র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গত ০১ আগস্ট স্থানীয় সন্ত্রাসী হক সাবের নেতৃত্বে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, কিরিচ, চাপাতি, রামদা ও লোহার রড সজ্জিত ১৮-২০ জনের একটি সশস্ত্র দল বিএসআরএম স্টিল রোলিং-২ এবং স্টিল মেলটিং-২ কারখানায় হামলা চালায়। এসময় হামলাকারীরা কারখানার অফিসকক্ষ ভাঙচুর, লুটপাট চালায় এবং ডিউটি অফিসার মোঃ শাহ আলম, সিকিউরিটি গার্ড মোরশেদ, ডাম্প ট্রাক চালক সোহাগসহ শ্রমিকদের উপর নির্মম হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে নিরাপত্তাকর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বিপুল পরিমাণ লোহা তৈরির স্ক্র্যাপ, নির্মাণাধীন বেষ্টনীর টিন ও নগদ টাকা লুট করে নেয়। এছাড়া বেষ্টনী নির্মাণ অব্যাহত রাখলে শ্রমিকদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনার পর বিএসআরএম কারখানার ম্যানেজার মোঃ দেলোয়ার হোসেন মোল্লা বাদী হয়ে জোরারগঞ্জ থানায় ৩২ জন এজাহারনামীয় ও ১৫-২০ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামী করে মামলা (নং-০২) দায়ের করেন।
মামলার তদন্তে নেমে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৩ আগস্ট রাতে কোতোয়ালী থানাধীন কাজির দেউরি এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহার নামীয় অন্যতম আসামী মোঃ তাজুল ইসলাম (২৭) কে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন স্থানে আরও দুটি অভিযানে পাঁচজনকে আটক করা হয়। তারা হলেন উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের পরাগলপুর গ্রামের বশির আহম্মদের ছেলে মো. ইমন (২৬), উত্তর পরাগলপুর গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে মো. সাদেক হোসেন (৩০), পরাগলপুর গ্রামের আলা উদ্দিনের ছেলে মো. হাসান (২২), চাঁদপুর থানার কচুয়া গ্রামের মো. মনির হোসেনের ছেলে মো. মাহবুব (২৬)। গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রোববার রাতে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন।
মামলার বাদি বিএসআরএম মীরসরাই জোনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ চক্রটি বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত। আমরা মামলা করেছি। সকল আসামীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল হালিম বলেন, আসামীদের সুনির্দিষ্ট মামলায় পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সোমবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা সংক্রান্ত আরো তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।




