মীরসরাই উপজেলা যুবলীগের সাবেকসাধারণ সম্পাদকসহ দুইজন গুলিবিদ্ধ

নিজস্ব প্রতিনিধি :
মীরসরাইয়ে দুর্বৃত্তের গুলিতে উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অনির্বাণ চৌধুরী রাজিবসহ দুইজন আহত হয়েছেন। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুরাতন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হাজীশ্বরাই তার গ্রামের বাড়ির পাশে মস্তাননগর এলাকায় দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলযোগে এসে গুলি ছুঁড়ে চলে যায়। গুলিবিদ্ধ রাজিব অমল পাল নামে এক ব্যক্তির মোটরসাইকেলের পেছনে বসেছিলেন। দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে অমলের পায়েও লাগে এবং রাজিবের কোমরের দুই পাশে দুইটি গুলি লাগে। তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাজিবকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

গুলিবিদ্ধ অনির্বাণ চৌধুরীর চাচাতো ভাই সঞ্জয় চৌধুরী বলেন, ‘আমার ভাই রাজীব উপজেলার মস্তাননগর বাজারে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। আড্ডা শেষে অমল পাল নামের এক প্রতিবেশীর সঙ্গে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় পেছন থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেলে থাকা দুই দুর্বৃত্ত পরপর তিনটি গুলি করেন। দুটি গুলি অনির্বাণ চৌধুরীর গায়ে লাগে ও আরেকটি গুলি অমল পালের ডান হাতের কনুই ছুঁয়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘গুলি করে পর দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় অনির্বাণ চৌধুরীকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসক তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।’

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব মোহন দে বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ অর্ণিবান চৌধুরী রাজীবের শরীর থেকে প্রথম দফায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি গুলি অপসারন করা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় ৭টায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আরেকটি গুলি বের করা হয়েছে। আপাতত তিনি শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের কর্তৃব্যরত চিকিৎসক ডা. ফাহিম ফেরদৌস বলেন, ‘শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় রাজিবকে হাসপাতালে আনা হয়। তার পিঠে কোমরের দুই পাশে দুটি গুলি লেগেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতে তাকে চমেক হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছি।’

মীরসরাই উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ আব্দুল আউয়াল তুহিন বলেন, ‘রাজিব দাদার শরীরে পরিস্কার বুলেট দেখা যাচ্ছে। রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেলে অপারেশন না করায় খুব হতাশ হয়েছি। দ্রæত অপারেশন করা না হলে শারীরিক অবস্থা খারাফের দিকে যাবে। আমি এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম বলেন, ‘খবর পেয়ে রাতে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এই ঘটনায় পুলিশ কাজ করছে। এখনো পর্যন্ত পরিবারের লোকজন কোন অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’